আমি ম্যাজিশিয়ান হতে চাইতাম।

 

আমার ছোটবেলায় যখন লাইফ তখনো জটিল হতে শুরু করেনি। আমি বড় হয়ে ম্যাজিশিয়ান হতে চাইতাম। 


আমাকে ম্যাজিশিয়ান হতে উৎসাহ প্রদানকারী আমার কাজিন লিয়াকত ভাই। আমার বয়স তখন সবে সাত/আট বছর। তিনি ঢাকা থেকে কিছু ম্যাজিক গ্যাজেট নিয়ে এসে আমাকে গিফট করে। আমি তখনো ম্যাজিককে সত্য মনে করতাম। যখন ভাই আমাকে প্রথমে থলের মধ্য কাগজ থেকে একশো টাকার নোট বানিয়ে দেখালো আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম। ভাই বলতেছিলো টাকাটা কিছুক্ষণ পরেই কাগজ হয়ে যাবে তাই যেনো আমি ফেরত দিয়ে দেই। আমি শুনিনি। আমি ভাইয়ের হাত থেকে টাকাটা নিয়ে ফেরত না দিয়ে দ্রুত দোকানে গিয়ে খরচ করা শুরু করি। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নেই, আমার জীবনে প্রথম কাজ হচ্ছে থলেটার ম্যাজিক শিখা এবং সারাজীবন কাগজ থেকে বান্ডিলের পর বান্ডিল একশো টাকার নোট জমা করা।


আমি সবার সামনে ম্যাজিক দেখিয়ে ফ্লেক্স নেওয়া শুরু করি। আমি একবার সবার সামনে জাদু দেখিয়ে ফ্লেক্স মারতেছিলাম তখন হটাৎ আমার আরেক বড়ভাই (শামীম ভাই) একটি ম্যাজিকের ট্রিক্সস সবার সামনে ফাঁস করে দেয়। তখন আমি রেগে গিয়ে সাথে সাথে গ্যাজেটটি ভেঙে দূরে ছুড়ে মারি। আমি মাঝেমধ্য নিজের প্রসংশা করি। আমি নিজেকে কতটা পরিবর্তন করেছি। আমি আমার রাগকে দমাতে পেরেছি। এটি খুবই কঠিন একটি কাজ। নিজেকে পরিবর্তন করতে পারা, নিজেকে দমাতে পারার ক্ষমতা আমাকে আনন্দিত করে। 


আমার ব্যাগে সবসময় কিছু ম্যাজিক গ্যাজেট থাকতো। ক্লাস এইটে থাকতে বিজ্ঞান ক্লাসে স্যার কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলায় হটাৎ সবাই আমার নাম বলতে থাকে। স্যার আমাকে ম্যাজিক দেখাতে অনুরোধ করে। আমি কাগজ থেকে ডলার বানিয়ে চমকিয়ে দেই। স্যার সেদিন আমার প্রসংশা করেছিলো। স্যার নেই কিন্তু তিনি আমার স্মৃতিতে চিরদিনই শ্রদ্ধায় রয়ে গেলেন, অমর হয়ে রইলেন।


ম্যাজিকে ম্যাজিশিয়ানদের যতটা না জাদুতে মনোযোগ দিতে হয় তার থেকে বেশি তাকে পরিশ্রম করতে হয় তার কথার জাদুতে। প্রাইমারিতে আমি একটি অনুষ্ঠানে "যেমন খুশি তেমন সাজো'তে" ম্যাজিক দেখিয়ে দ্বিতীয় হই। আমি তখন হাতের ভেলকিতে পরিপক্ব হলেও মুখের ভেলকিতে আগাতে পারছিলাম না। আমার সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন লিয়াকত ভাই। তিনি মাইকে তার কথার জাদুতে সবাইকে মুগ্ধ করতে থাকেন আর আমি আমার হাতের জাদুতে। এভাবেই সেদিন এত মানুষের মধ্য ম্যাজিশিয়ান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সিড়ি শুরু করতে সক্ষম হই।


একজন ম্যাজিশিয়ান হিসেবে নিজেকে চূড়ায় নেওয়ার জন্য হাতের জাদু যেমন দরকার তেমনই তার কথার জাদুতে সবাইকে আটকে রাখতে পারা এবং সবার সামনে সবাইকে তার ম্যাজিকে বিশ্বাস করাতে পারার ক্ষমতা থাকতে হয়। আমি কথা দিয়ে ধরে রাখতে পারলেও হয়তো হাতের জাদুতে অনেক পিছিয়ে তাই আগাতে পারিনি। তাছাড়াও আমার কোনো জিনিসের পেছনে দীর্ঘসময় ধরে একাগ্রতা ধরে রাখতে না পারাও একটা কারণ হতে পারে। 


তবুও আমি জীবনের কোনো একটি সময় আবারো ম্যাজিশিয়ান হতে চাই। হতে পারে এটি হাতের ম্যাজিক কিংবা জীবন পরিবর্তনকারী কোনো নতুন ম্যাজিক।

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ