অনুগল্পঃ একটি নয়! দুইটি গোলাপ।
লাল টকটকে গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে আসিফ। মনোযোগ লাল টকটকে গোলাপে হওয়া উচিত, কিন্তু তা না হয়ে সবাই যেন কিছু একটায় ব্যস্ত। আসিফ তো একটি গোলাপ এনেছিলো। দুটো এলো কোথা থেকে! হাতে একটি, গালে একটি গোলাপ, লাল টকটকে গোলাপ!
অকাজে ব্যস্ত সময় পার করা আর ডিপ্রেশন ছেঁকে বসেছে। আসিফ আফসোস করতে থাকে, সবাই কত সুন্দর সময় কাটাচ্ছে। পার্সোনাল বান্ধবী আর অগণিত বেনামের বান্ধবীদ্বয়দের দিয়েও যেখানে অন্যদের মনোরঞ্জনে ঘাটতি, সেইখানে এই কলিযুগে একটি পার্সোনাল বান্ধবীর অপূরণীয় ঘাটতিকে চরম নেগেটিভ অউরা হিসেবে দেখা যায় কিনা তা নিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে মন বেদনায় ভরে উঠলো।
ইন্সটায় রিলসে এক সুন্দরীর অসুন্দর জোকসেও “ভারী চমৎকার জোকস হা হা হা” লিখেও পজিটিভ রেসপন্স না পাওয়ায়, অসুন্দর চেহারার দোষ ঢাকতে নিজের ভাগ্যের দোষ নাকি ইন্সটায় প্রতিদিন রাত তিনটায় ছবি পোস্ট করাকে দোষী করা যায় তা নিয়ে চিন্তায় জর্জরিত হতে থাকলো।
কথাবার্তায় বেসামাল আর ইগোস্টিক সমস্যা। এ যেনো চেহারার উপরে আবার বাদরের আলগা ভাব হয়ে উঠছে।
তনিমা। সদ্য ইন্টারে পড়ুয়া, নিজেকে রিলস মডেল হিসেবে দাবিকারী সুন্দরী। কয়েকদিন ভুয়া ফ্লার্টিং আর অতিপাম উৎপাদনে প্রেমে গদগদ নতুন আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিলো। এটাও বেশিদিন স্থায়ী হলো না। হঠাৎ একদিন ঢেঁড়সকে সাদা চামড়ার লোকেরা কোন নামে বেশি ডাকে, লেডিস ফিঙ্গার নাকি ওকরা। এ নিয়ে তর্কে কেউই পরাজয় স্বীকার করতে না চাওয়ায়, ব্লকের মাধ্যমে ঢেঁড়সের জয় এবং তিন মাসের গদগদ প্রেমের অপমৃত্যু ও পরাজয় ঘটলো।
প্রেমের অপমৃত্যু যে এটাই প্রথম, এমন নয়। হাইস্কুলে বিন্দাস সময়ে, অসময়ে যে যেভাবে পেরেছে, মনকে ভেঙে চুরে বালু করে দিয়েছে। বারবার পছন্দ আর ব্যর্থতা আসিফের মনে কষ্ট আর বেদনাকে ভেঙে দিয়েছে। এখন আসিফ শুধুই বসে থাকে। নতুন আরেকবার ভাঙার আশায়, বেদনাকে বরন করা আশায়।
ক্যাম্পাসে ফুল ফুটেছে। নতুন ফুল। গোলাপ। গোলাপের নেশায় নতুনভাবে উচ্ছ্বসিত আসিফ। গোলাপ হাতে, গোলাপকে ঘিরে গোল গোল ঘুরে, গোলাপকে টকটকে লাল গোলাপ দিয়ে, ব্যর্থ হাতে, সাথে গালেও টকটকে গোলাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
অতঃপর নতুন করে আসিফের আবারও ভাঙে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন